বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলে
বলেশ্বরে ফের কুমিরের হানা, আতঙ্কে উপকূলবাসী
গাভীকে নদীতে টেনে নেওয়ার চেষ্টা, গুরুতর জখম | বারবার ভেসে উঠছে বিশাল কুমির | গোসল-মাছ ধরা ও গবাদিপশু চরানোয় উদ্বেগ
সুন্দরবন থেকে ফিরে:দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলেবাগেরহাটের শরণখোলায় আবারও কুমির আতঙ্ক। সোমবার দুপুরে বলেশ্বর নদসংলগ্ন চরে কচুরিপানা খাওয়ার সময় একটি গাভীর ওপর হামলা চালিয়ে সেটিকে নদীর দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে বিশাল আকৃতির একটি কুমির। স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করলে গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে যায় কুমিরটি। হামলায় গাভীটির পেছনের অংশ ও ওলান গুরুতর জখম হয়েছে।
তবে গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে গেলেও কুমিরটি এলাকা ছেড়ে যায়নি। কিছুক্ষণ পরপর বলেশ্বর নদে ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে সেটিকে। ফলে নদীতে গোসল, মাছ ধরা এবং চরে গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বলেশ্বর নদসংলগ্ন এলাকায় বড় আকৃতির একটি কুমিরের বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সাউথখালীর বাবলাতলা ও গাবতলা-সংলগ্ন বলেশ্বর নদে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ফুট লম্বা একটি কুমির দেখা যায়। তখন কুমিরটি দেখতে নদীর পাড়ে উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছিল। এবার বগী এলাকায় সেই কুমিরেরই গবাদিপশুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
ক্ষতিগ্রস্ত গাভীর মালিক পুতুল বেগম বলেন, চারটি গরু বলেশ্বর নদের চরে জমে থাকা কচুরিপানা খাচ্ছিল। দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ নদ থেকে একটি কুমির উঠে এসে একটি গাভীর পেছনের অংশে কামড়ে ধরে নদীর দিকে টেনে নিতে থাকে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করলে কুমিরটি গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে যায়। গাভীটির আনুমানিক দাম ৮০ হাজার টাকা।
প্রত্যক্ষদর্শী রাসেল ও সুজন বলেন, তারা নদীর পাড়ে বসে ছিলেন। এ সময় কুমিরটিকে গাভীটি টেনে নদীর দিকে নিয়ে যেতে দেখেন। কয়েকজন মিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করলে কুমিরটি গাভীটিকে ছেড়ে দেয়। পরে সেটিকে নদে চলে যেতে দেখা যায়।
শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ বলেন, কুমিরের আক্রমণে গাভীটি বেশ জখম হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, গরুর ওপর কুমিরের হামলার খবর পেয়ে বনরক্ষীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কুমিরটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের আশপাশে একটি কুমিরের বিচরণ রয়েছে। সেটি মাঝেমধ্যে রেঞ্জ অফিসের সামনের নদীতে চলে আসে এবং পরে আবার আলীবান্দা এলাকায় ফিরে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কুমিরটি একবার বলেশ্বর নদে চলে গিয়েছিল। বগী এলাকায় দেখা কুমিরটিও সেটি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুমিরের উপস্থিতি ও গবাদিপশুর ওপর হামলার ঘটনায় বলেশ্বর নদসংলগ্ন বগীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয়রা নদে চলাচল ও গবাদিপশু চরানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন